কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬ এ ১১:২৩ AM
কন্টেন্ট: পাতা

মাননীয় অর্থমন্ত্রীর সাথে সর্বজনীন পেনশন স্কিম বিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত
আজ ১২ মে ২০২৬ তারিখ বিকাল ৪:০০ টায় মাননীয় অর্থমন্ত্রী জনাব আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এর সভাপতিত্বে অর্থমন্ত্রী মহোদয়ের সভাকক্ষে সর্বজনীন পেনশন স্কিমের অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বিষয়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ উচ্চ পর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মোঃ সুরাতুজ্জামানসহ কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এবং অর্থ সচিব ড. মোঃ খায়েরুজ্জামান মজুমদার ও অর্থ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান সর্বজনীন পেনশন স্কিমের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে একটি বিস্তারিত উপস্থাপনা প্রদান করেন। উপস্থাপনায় তুলে ধরা হয় যে, ৩০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত চারটি স্কিমে (প্রবাস, প্রগতি, সুরক্ষা ও সমতা) মোট ৩,৭৭,৫৪৫ জন নাগরিক নিবন্ধিত হয়েছেন এবং পেনশন তহবিলে মোট জমার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৫৫ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা। মুনাফাসহ এ পর্যন্ত মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ২৭৯ কোটি ৭৪ লক্ষ টাকা।
সভায় আরও জানানো হয় যে, বাংলাদেশের মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৮৫ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত এবং দেশের বয়স্ক জনগোষ্ঠীর নির্ভরশীলতার অনুপাত ২০২৩ সালের ৯.৪ শতাংশ থেকে ২০৫০ সালে ২৪ শতাংশ ও ২০৭৫ সালে ৪৮ শতাংশে উন্নীত হবে। ভবিষ্যতের এই জনমিতিক(Demographic) পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে সর্বজনীন পেনশন স্কিমকে আরও শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
সভায় মাননীয় অর্থমন্ত্রী সর্বজনীন পেনশন স্কিমের সম্প্রসারণে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের প্রায় ৪ কোটি পরিবারের প্রতিটি থেকে কমপক্ষে একজন সদস্যকে পেনশন স্কিমের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের নির্দেশনা প্রদান করেন। একই সাথে স্কিমকে আরও আকর্ষণীয় করতে শরিয়াহভিত্তিক পেনশন স্কিম চালু, নমিনিদের জন্য আজীবন পেনশন সুবিধা বিবেচনা এবং প্রগতি স্কিমে আউটসোর্সিং কর্মীদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন।
সভাকে জানানো হয় যে, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ প্রকল্পে ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহজশর্তে ঋণ প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং সম্ভাব্যতা যাচাই কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়া ৪৫টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিকাশ, নগদ ও টেলিটকের মাধ্যমে চাঁদা গ্রহণের ব্যবস্থা এবং ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে সভায় অবহিত করা হয়।
মাননীয় অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬ অনুযায়ী বেসরকারি খাতের কর্মীদের বার্ধক্যকালীন আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘পেনশন ফান্ড’ গঠন একটি অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার। তিনি সর্বজনীন পেনশন স্কিমে জনগণের আস্থা বৃদ্ধি, প্রচার কার্যক্রম জোরদার, সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দক্ষ ও পেশাদার জনবল নিয়োগের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় সার্বিক আলোচনার পর সর্বজনীন পেনশন স্কিমকে আরও কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তোলার লক্ষ্যে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। মাননীয় অর্থমন্ত্রী সর্বজনীন পেনশন কর্তৃপক্ষকে সক্রিয়ভাবে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান এবং সর্বজনীন পেনশন স্কিমকে সকল নাগরিকের কাছে পৌঁছে দিতে সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।